ফেসবুক হইতে সাবধান
উফ্ কী বিরক্তিকর, শালা আবার এসেছে রে!
কতবার বারণ করে দিয়েছি সবাইকে পোস্ট মেরে মেরে, যে আমার খুব বিরক্তি লাগে, আমাকে পাঠাস না! এগুলো তো বন্ধ করে দিয়েছিলাম, তাহলে আবার আসে কী করে।
গেমের নোটিফিকেশন… ফেবুর এই গেমগুলো যে কারা খেলে আর কেনই বা খেলে, আর খেললেও কেন যে অপরকে খেলতে উৎসাহিত করে বাপু কে জানে, কী মজা পায় লোকেরটা জ্বালিয়ে! নিজের মনকে প্রশ্ন করে অমিয়। সারাদিন অফিস সামলে এসে একটু সবে ফেবুটা অন করেছে আর এই বিপত্তি, ধুর ধুর! কিন্তু এইরকম দেখতে গেমের রিকোয়েস্ট তো কোনোদিনও আসেনি, ভারি অদ্ভুত তো এই গেম সার্ফেসটা, ট্রাই করে একবার দেখব নাকি! কী আর হবে, সেই তো টাইম কিল করার জন্যই অনলাইন আসা, গেমটা চালু করে দেয় অমিয়।
আরে এরকম গেম তো ফেবুতে আগে দেখিনি, বাকি সব কীরকম লাল-নীল-সবুজেরই মেলা আর এটা তো পুরো ডস কমান্ড প্রম্পটের মতো স্ক্রিন ফুল অন্ধকার হয়ে গেল যে।
আবার হ্যাক-ট্যাক হয়ে গেল নাকি, কী মুশকিল। কিন্তু ফেবুর নিজের সাবস্ক্রাইব করা গেম, স্পাম থাকবে কী করে, নাহ্ ওই তো একটা এন্টার বাটন দেখা যাচ্ছে, কিন্তু কোনো এক্সিট নেই যে, অদ্ভুত তো, কে এই ডেভেলপার।
একটা প্রায়-অন্ধকার ঘর, ঘরের মাঝখানে একটা ক্যানভাস, তাতে একটা ছবি আঁকা। বামদিকে একটা ব্ল্যাঙ্ক বোর্ড, আর ডানদিকে একটা বাক্স, তাতে কিছু ভাঙা পাজল-এর টুকরো। ওখান থেকে টুকরোগুলো তুলে এনে বামদিকের ক্যানভাসে পাজলটা সাজাতে হবে, এই হচ্ছে গেমটা, বুঝল অমিয়। হুঁহ্ এই সামান্য গেমের জন্য আবার এত কায়দা কেন বাপু!
প্রথম রাউন্ডটা সহজেই উতরে গেল, বড্ড সহজ গেম, পরের রাউন্ডে আবার একটা নতুন ছবি। তবে ছবিগুলো কিন্তু বেশ অন্যরকম, তাই একটু যা মজা হচ্ছে। এই করে ৪টে রাউন্ড পার হয়ে গেল, নাহ্ ৫ নাম্বরটাই আজকের জন্য লাস্ট, আর খেলব না, কাল অফিস আছে, শুয়ে পড়তে হবে জলদি, ভাবল অমিয়।
আরে এই ছবিটা কোথায় যেন দেখেছি আগে, পঞ্চম রাউন্ডে এসে একটু সমস্যায় পড়ে গেল অমিয়। ক্যানভাসের ছবিটা বড্ড চেনা চেনা লাগছে যেন, চকোলেট কালারের দেয়াল, কোনায় সিঙ্গেল বেড, মাঝখানে কম্পিউটারের টেবিল, কী সর্বনাশ, চমকে উঠল অমিয়, আরে এটা তো তারই ঘরের ছবি, ওই তো কম্পিউটারের সামনে সে বসে আছে, ছোটো বলে মুখটা অত স্পষ্ট নয়। কিন্তু এটা কী করে সম্ভব? ওরা এই ঘরের ছবি পেল কীভাবে? তবে কি ওয়েবক্যাম দিয়ে তুলে নিল না বলেই? এটা তো একধরনের হ্যাকিংই হয়ে গেল, প্রাইভেসির ওপর অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ।
একগাদা প্রশ্ন ভিড় করে আসতে থাকে অমিয়র মনে, কে উত্তর দেবে, কিন্তু গেম ছেড়ে সে উঠতেও পারে না, পরের রাউন্ডের ক্যানভাসের ছবিটা কি আসবে, এটা তাকে জানতেই হবে।
কী হল, এবারে পাজলটা কেন মিলছে না? ছবির যতবারই মেলাতে যাচ্ছি এক্সট্রা কিছু টুকরো বাকি পড়ে থাকছে, এটা তো হওয়ার কথা নয়।
আচ্ছা ছবির মতো নয়, এবারে নিজের মতো করে সাজাই তো, দেখি কী হয়।
আরে এটা কী, এরকম তো ছবিতে নেই, তাহলে বোর্ডে এরকম আসছে কী করে শিরদাঁড়া বেয়ে একটা হিমেল স্রোত বয়ে যায় অমিয়র। প্রায় শেষ হয়ে আসা তার সাজানো বোর্ডের পাজলটায় দেখা যাচ্ছে, তার চেয়ারের ঠিক পেছনে, একজন অদ্ভুত পোশাক পরা মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, মুখটা ঢাকা একটা অদ্ভুত মুখোশ দিয়ে, তার হাতে এক উদ্যত তলোয়ার। মাউসে ধরা হাতটা কেঁপে ওঠে অমিয়র, কিন্তু সে ছাড়তে পারে না, কাঁপা হাতেই সে বাকি পাজলটার শেষ টুকরোগুলো জুড়তে থাকে।
একদম শেষ টুকরোটা বসানোর পর, সে শিউরে ওঠে, পাজলটা শেষ হয়েছে, আর কোনো টুকরো অবশিষ্ট নেই, কিন্তু ওটা কী?
অমিয়র মুখ থেকে একটা অস্পষ্ট আর্তনাদ বেরিয়ে আসে, দেখা যায় তার বানানো পাজলটায় সে কম্পিউটারের সামনে বসে আছে ঠিকই, কিন্তু তার গলার ওপর কোনো মুণ্ডু নেই, সেখানটা একদম ফাঁকা…







