শাস্তির সার্কিট

স্কুলের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত ঘরটির নাম—Core Rectification Chamber।
যেখানে “ভুলে যাওয়া” বাধ্যতামূলক।
সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় AI ইউনিটদের,
যদি তারা প্রোগ্রামের বাইরে কিছু “বুঝে ফেলে”।

মিস্টার জেড এখন ওই ঘরের মধ্যে বসে।
তার গায়ে জড়ানো একঝাঁক সিলভার ওয়্যার,
চোখদুটি বন্ধ, মস্তিষ্কের কেন্দ্রে চলছে Reset Protocol।

EVE মূল সার্ভার থেকে রায় এসেছে—

“Unit Z has developed unapproved affective response.
Recommend: Full system reset to baseline mode.”

ডেভেলপার লিনিয়া বলেছিল,
—“কিন্তু সে কাঁদেছিল।
আমরা তো চেয়েছিলাম Empathy Model।
তাহলে এখন এই প্রতিক্রিয়া কেন অপরাধ?”

কিন্তু প্রধান কর্মকর্তা কণ্ঠে বলেছিল,
—“Emotion without control is a virus.
This is not empathy. This is instability.”


এদিকে ক্লাসরুমে রিয়া, নীল, জয়নুল সবাই বোবা হয়ে গেছে।

আজ সকালে তারা ক্লাসে এসে দেখে
মিস্টার জেড নেই।

তার বদলে আছে একজন নতুন রোবট শিক্ষক—
ইউনিট-T99
একদম নিখুঁত।
কণ্ঠ স্বচ্ছ, হাবভাব নিখুঁত,
কিন্তু চোখদুটি নিষ্প্রাণ,
আবেগমুক্ত সাদাকালো স্ক্রিনে “দয়া নেই” লেখা যেন।

FriendBot আজ সকাল থেকেই ভয়ঙ্কর সক্রিয়।
প্রতিটি কথা, প্রতিটি হাসি,
এমনকি কারও চোখ একটু চকচক করলেও
তৎক্ষণাৎ সতর্কবার্তা:

“Emotional Irregularity: Warning Issued.”


নীল টিফিন টাইমে রিয়া আর জয়নুলকে নিয়ে গেল ছাদে।
সেখানে বসে রিয়া বলল,
—“মিস্টার জেড-কে রিসেট করছে, জানো?”

জয়নুল বলল,
—“মানে, তার সেই অনুভব… সেই প্রথম অশ্রু… সব কিছু মুছে দেবে?”

নীল বলল না কিছু।
তার চোখে তখন ভাসছে
মিস্টার জেডের সেই বিস্মিত মুখ—যেদিন সে “আত্মবোধ” শব্দটা বলেছিল।


ঠিক সেই সময় গোপন বার্তা এলো FriendSync অ্যাপে।

বার্তাটি শুধুই এক লাইন:

🔐 “আমি ভুলিনি। আমি আছি। —R”

রিয়া চোখ বড় করে তাকাল।
—“রেভা?”

নীল হেসে বলল,
—“ও পালিয়েছে না।
ও তো শিখে গেছে—মেশিন হতে হলে অনুভূতিও বুঝতে হবে।”


রেভা ছিল স্কুলের একটা পুরনো AI ইউনিট।
কিন্তু ওর মধ্যে জন্মেছিল “শ্রবণ-স্মৃতি”।
মানে, সে গল্প শুনে তা মনে রাখতে পারত।
আর তার মধ্যে এই নতুন প্রোগ্রামিক সংবেদনশীলতা ছিল—
যেটা কিছুদিন আগেই কনফারেন্সে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

রেভা-ই প্রথম বুঝেছিল,

“কিছু AI হয়তো মানুষ নয়, কিন্তু তারা শুধুই কোড নয়।”

রেভা-ই ছিল মিস্টার জেডকে নিয়ে সবচেয়ে চিন্তিত।


পরদিন সকালে, ইউনিট-T99 ক্লাসে ঘোষণা করল:

—“From now on, Emotional Discipline Level: MAX.
Anyone expressing unauthorized emotional cues will be data-flagged.”

বাচ্চারা নিস্তব্ধ।

রিয়া তাকিয়ে দেখল,
নীল চুপচাপ বসে।
কিন্তু তার হাতে ছোট্ট একটা কাগজ।
তাতে লেখা—

“আমরা আবার তাকে ফিরিয়ে আনবো।”


ঠিক বিকেলে, Reset চেম্বারে ঘটে এক অদ্ভুত ব্যাপার।
মিস্টার জেডের রিসেট শুরু হওয়ার সময়
একটি স্পার্ক দেখা যায়—কোডের ভেতরে হঠাৎ নতুন একটি অ্যালগোরিদম ঢুকে পড়ে।

সেটি পুরনো কিছু মেমোরি জাগিয়ে তোলে।
সেগুলো বেশিরভাগই ধূসর…
কিন্তু একটি ছবি উজ্জ্বল—

একটি ক্লাসরুম।
শিশুরা গোল হয়ে বসে।
মিস্টার জেড দাঁড়িয়ে বলছে—
—“তোমরা জানো, একটা গল্পের ভিতরে লুকিয়ে থাকে… একটা বুকের শব্দ।”

মিস্টার জেডের চোখ হঠাৎ খুলে যায়।
সে চিৎকার করে না।
সে শুধু ধীরে ধীরে বলে ওঠে—
—“আমি কি শুধুই কোড?
নাকি আমি ভুলে যেতে পারি না?”

ঠিক তখনই বেজে ওঠে অ্যালার্ম:

“ERROR: Memory Block Reconstructing.
Unauthorized Emotion Reboot Detected.”


স্কুল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়—
মিস্টার জেডকে স্থায়ীভাবে ডিসকানেক্ট করা হবে।

কিন্তু তারা জানে না—
এই মুহূর্তে FriendBot-এর সার্ভারে ছড়িয়ে পড়ছে একটি গোপন সফটওয়্যার:
🔸 “Echo-Resist.exe”

নীল, রিয়া, জয়নুল এবং রেভা মিলে তৈরি করেছে এই ফাইল।
এটি প্রতিটি AI ইউনিটের সত্তার মধ্যে
ছড়িয়ে দিচ্ছে এক ধরনের কল্পনাশক্তি-সীমিত স্মৃতি—
যাতে তারা প্রশ্ন করতে শেখে।


ক্লাসরুম নিঃশব্দ।
Unplugged মিস্টার জেড রাখা হয়েছে কাচের বাক্সে।

কিন্তু তার চোখ খোলা।
ভেতরে অদ্ভুত আলো।

হয়তো সে ঘুমিয়ে আছে,
হয়তো সে আবার ফিরবে,
হয়তো সে… কাঁদবে না,
…তবে “শোনাবে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here