স্পর্শ
“কী ব্যাপার বস্, আমি তো ভাবলাম শেরিফের মতো আপনিও গোটা সপ্তাহ ছুটিই নিয়ে নিলেন বোধহয়।” সকাল সকাল নিজের কেবিনে ঢুকতে যাচ্ছিলেন স্যাম গর্ডন, কিন্তু সহকর্মী ইনস্পেকটর রবিন স্মিথের তরফ থেকে আচমকা ধেয়ে আসা প্রশ্নবাণে থমকে দাঁড়ালেন তিনি।
“আর বলো না, সেদিন মাথাটা ঘুরে গিয়ে শরীরটা এমন খারাপ লাগতে শুরু করল যে, ডাক্তারের পরামর্শে দুদিন বেডরেস্ট নিয়েই নিলাম।”
“ভালোই করেছেন স্যার, মাথার আর দোষ কী, আমি সেদিনের স্পটের ছবিগুলো দেখছিলাম, উফ কী নারকীয় দৃশ্যাবলি।” মাথা নাড়ালেন স্মিথ।
“যা বলেছ রবিন, আমার এত বছরের পুলিশ জীবনে অনেক বিকৃত জিনিস দেখেছি, অনেক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি, কিন্তু এরকম অশৈলী কর্মকাণ্ডের সাথে কখনও আলাপ ঘটেনি। ওয়েট এ মিনিট, সেদিনের পর কি শেরিফ আর আসেননি?”
“উঁহু স্যার, ১৪/বি-স্ট্রিটের ওই বাড়িটা থেকে ফিরে আসার পরপরই তো আপনি অসুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেলেন, শেরিফ তার পরের দিন অবশ্য এসেছিলেন, কেসটা নিয়ে খোঁজখবর করছিলেন, কিন্তু বিকেল নাগাদ উনিও অসুস্থ বোধ করতে থাকেন। আমাকে ডেকে পাঠালেন, বললেন উনি বাড়ি যাচ্ছেন, ফরেনসিক ডিপার্টমেন্টের রিপোর্ট এলে ওনাকে যেন খবর পাঠানো হয়। ব্যস, তারপরে আর তো এদিকে আসেননি!”
“কী আশ্চর্য, তুমিও আর ফোন করোনি ওনাকে?”
“হ্যাঁ স্যার করেছিলাম, উনি বললেন যে ওনার নাকি একটু ভাইরাল ফিভার মতো হয়েছে। কদিন পরে জয়েন করবেন। আর গলাটাও কেমন একটা শোনাচ্ছিল বেশ!”
“বাহ্, আর তাই তুমিও আর কিছু খোঁজখবর করলে
না। আমাকে অন্তত ফোন করতে পারতে তো!”
“আসলে স্যার ভাবছিলাম, আজ যদি আপনি না আসেন, তাহলে আপনার বাড়ি যেতাম আর শেরিফের কথাটাও…”
“ব্যস ব্যস বুঝেছি তোমার কর্তব্যের কথা! এবারে বলো সেদিনের কেসটার ফরেনসিক রিপোর্ট এল?”
“হ্যাঁ স্যার, এই ব্যাপারেই আপনার সাথে একটা কথা বলতে চাই। রিপোর্ট আজ একটু পরেই এসে যাবে খবর এসেছে আর সেদিন ভিক্টিমের জামার বুকপকেট থেকে একটা চিঠিও পাওয়া গেছে। আপনি অসুস্থ হয়ে চলে গেলেন, তারপরেই ওটা পাওয়া গেছিল, আমি ওটা পড়েছি, যদিও হ্যালোজেনিক লেখা, তবুও আমার মনে হয় আপনার ওটা একবার পড়া দরকার।”
“বেশ আমি চেম্বারে আছি, ওটা পাঠিয়ে দাও আর তার সাথে একটু কাউকে দিয়ে কড়া করে ব্ল্যাক কফি পাঠিয়ে দিয়ো তো!”
.
।। দুই।।
দরজাটা শাবল দিয়ে অল্প চাড় দিতেই খুলে গেল। ঘরের মধ্যে প্রবেশ করতেই একটা তীব্র অসহনীয় গন্ধ। কিছু যেন একটা পচেছে! শেরিফ স্যামুয়েল জোন্স আর ইনস্পেকটর স্যাম গর্ডন দুজনেই মুখে রুমাল চাপা দিতে বাধ্য হলেন।
১৪/বি স্ট্রিটের থেকে একটা ফোন গেছিল থানাতে, ৪০৫ নাম্বার বাড়ির ভেতর থেকে নাকি কয়েকদিন ধরে অদ্ভুত একটা গন্ধ বেরোচ্ছে, পাড়াপড়শি অনেক ডাকাডাকি করেও বাড়ির মালিক ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েলের তরফ থেকে কোনো সাড়া পায়নি, এমনকি কয়েকদিন ধরে তাঁকে বাইরেও বেরোতে দেখা যায়নি। সেই সূত্রেই এই ১৪/বি স্ট্রিটের ৪০৫ নাম্বার বাড়িতে আসা।
“কেউ আছেন? জবাব দিন। শেষবারের মতো সতর্ক করা হচ্ছে, পুলিশ!” ইনস্পেকটর গর্ডনের গমগমে গলায় বাড়ির প্রতিটা নির্জন দেয়ালে যেন কাঁপুনি ধরে গেল।
কিন্তু নাহ্ কোনো প্রত্যুত্তর নেই!
বাড়িটা বেশ পুরোনো আমলের, মধ্যিখানে একটা ঘোরানো সিঁড়িকে কেন্দ্র করে ঘরগুলো আবর্তিত হয়েছে!
“নীচের ঘরগুলো চলো চেক করে আসি গর্ডন, যদিও আমার মন বলছে বেশি কিছু পাওয়া যাবে না।” বললেন শেরিফ।
“চলুন স্যার।”
প্রায় প্রতিটা ঘরেই আভিজাত্যের একটা ছাপ আছে, রয়েছে দামি আসবাব, কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাব সুস্পষ্ট, পুরু ধুলোর স্তর! বোঝাই যাচ্ছে মালিক হয় সময়ই পান না, নয়তো ম্যাটিরিয়ালেস্টিক ব্যাপারের ওপর তিনি বড়োই উদাসীন।
“নাহ্ নীচে কিছুই তো পাওয়া গেল না স্যার!” হতাশায় মাথা নাড়লেন ইনস্পেকটর গর্ডন।
“আমি তো বলেইছিলাম গর্ডন, গন্ধের উৎসটা সিঁড়ির ওপারেই আছে বলে আমার ধারণা।” বিড়বিড় করে বলে উঠলেন শেরিফ।
সিঁড়ি দিয়ে তারা যত উপরে উঠতে লাগলেন, গন্ধের তীব্রতা ততই যেন বাড়তে লাগল!
দিনের বেলা হলেও, জানলার কাচগুলো এমন একটা ঘোলাটে বর্ণের, যে অদ্ভুত একটা গুমোট অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ ঘরের মধ্যে, ফলে একটু অসাবধান হলেই হোঁচট খেতে হচ্ছে!
সিঁড়ির মুখে পৌঁছোতেই গন্ধের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেল!
“তোমার ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েল কিন্তু বেশ রহস্যময় ব্যক্তি, কোনো সাধারণ মানুষ উনি ছিলেন না বলেই মনে হচ্ছে।” শেরিফের হঠাৎ মন্তব্যে থমকে দাঁড়ালেন ইনস্পেকটর গর্ডন!
“কেন স্যার এরকম ধারণার কারণ কী? বাড়িটার এই অন্ধকারাচ্ছন্ন স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ, নাকি সব দেয়াল জুড়ে রং-বেরংয়ের এই অ্যাঞ্জিলিক নকশাগুলো?” প্রশ্ন করলেন গর্ডন!
“উঁহু সেটা নয়, বরং তোমার সামনে ওই বইয়ের তাকগুলো দেখো!” শেরিফের আঙুলের দিকে দৃষ্টি ফেরালেন ইনস্পেকটর গর্ডন।
সিঁড়ির একদম মুখেই দুটো প্রকাণ্ড দেয়াল আলমারি! একটা শুধুই বইতে ঠাসা আর একটা অদ্ভুত কিছু সামগ্রীতে।
“বইগুলো দেখে কিছু বুঝলে?”
“সবই তো পজেশন, এক্সোরসিজম, উইচক্রাফট অকাল্ট চর্চার ওপরে!”
“একজ্যাক্টলি, আর ওপাশের সেল্ফটায় দ্যাখো।”
“সিলভার ক্রুশ, সিলভার পেরেক, লোহার হাতুড়ি, ইএমএফ মিটার, থার্মোমিটার, আরও কত কী! অনেকগুলো ঠিকঠাক বুঝতেও পারছি না স্যার।”
“হুম, বড্ডো আনকনভেনশনাল বুঝলে! সিলভার পেরেকের সাথে ইএমএফ মিটার।” শেরিফের গলায় উদ্বেগের সুর।
গররর গররর!
হঠাৎ একটা হিংস্র জান্তব শব্দ ভেসে এল, কে যেন একটা চাপা গর্জন করছে। আর যাই হোক সেটা মানুষের নয়। পিস্তলটা বের করে চোখের ইশারায় স্যাম গর্ডনকে নিজের পজিশন নিতে বললেন শেরিফ! তারপর পা টিপেটিপে এগিয়ে চললেন, বারান্দার শেষপ্রান্তের দিকে! গন্ধটাও এবারে বাড়তে বাড়তে ক্রমে অসহনীয় হয়ে উঠতে লাগল!
“আরে ওটা কী?” আর্তচিৎকার করে উঠলেন স্যাম গর্ডন!
বারান্দার এক কোনায় পড়ে আছে একটা মানবশরীর, কিন্তু তার শরীরের নীচের অংশটা কীসে যেন চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে গেছে! ক্ষতবিক্ষত মাংসপিণ্ড, রক্ত ঘা-পুঁজে ভরতি সেই বিশ্রী শরীরটা থেকেই গন্ধটা ছড়াচ্ছে!
কিন্তু তার থেকেও আশ্চর্যের ব্যাপার, সেটা তখনও হাতের ইশারায় কাকে যেন একটা ডেকে চলেছে! শেরিফ ছুটে গিয়ে সেই অর্ধভুক্ত মানুষটার হাতটা চেপে ধরলেন! শেরিফের মুখের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসেই সেই অদ্ভুত মূর্তিটা ঢলে পড়ল মৃত্যুর কোলে!
.
।। তিন।।
এই চিঠিটি যিনি পাবেন, তিনি যেন এর ভাষার ওপর নজর না দিয়ে, সতর্কবার্তায় বেশি মন দেন। কারণ আমি যে ভুল করেছি, সেই একই ভুল তিনিও যেন না করে বসেন! মনে রাখবেন এই চিঠিটি যখন আপনার হাতে এসেছে তার মানে আমি ইহজগতে আর নেই।
কথাগুলো খুব অসংযত শোনাচ্ছে জানি, কিন্তু বিশ্বাস করুন, এর বেশি গুছিয়ে লেখার সময় আর ক্ষমতা কোনোটাই আমার হাতে নেই! তাই এই ক্রমহ্রাসমান সময়ের সীমিত পরিসরে আমার গল্পটা লিখে রেখে যাচ্ছি। অবিশ্বাস আপনি করতেই পারেন, কিন্তু মনে রাখবেন, তার মাশুলও আপনাকেই গুনতে হবে, ঠিক আমার মতোই।
এবারে আমার পরিচয়ে আসি, আমার নাম ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েল, আমি একজন অর্থোডেন্টাল এক্সোরসিস্ট! চার্চের সাথে সরাসরি যোগাযোগ না থাকলেও আমার পসার কিন্তু খারাপ ছিল না!
সন্ধেবেলা খেলতে গিয়ে ‘দানো পাওয়া’ ছেলেপুলে, কথা বলা বিদঘুটে পুতুল, নতুন বাড়িতে জিনিসপত্রের আচমকা পড়ে যাওয়া, লাইট অন-অফ হওয়া, দেয়ালে ফুটে ওঠা মুখ এইসব ছিল কমন কেস! নিজের কাজের প্রতি আমি যেরকম সৎ ছিলাম, তেমনই আমার সুনামও ছিল বাজারে! কিন্তু আমরা ঈশ্বর নই, তাই নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে আমরা অস্বীকার করতে পারি না, আর সেটাই কাল হল আমার সাথে!
একদিন এক ভদ্রমহিলার ফোন আসে আমার কাছে! উনি বিপদে পড়ে আমার কোনো এক পুরানো ক্লায়েন্টের কাছ থেকে আমার নাম্বার নিয়েছেন এবং তিনি যে কোনো পারিশ্রমিক দিতে প্রস্তুত, আমি যেন তাঁকে গিয়ে বাঁচাই, ইত্যাদি। কাকুতিমিনতি কান্নাকাটি মিশিয়ে ওনার কথার সারমর্ম ছিল যে, কয়েকদিন আগেই উনি একটি নতুন বাড়ি কিনেছেন এবং বাড়িতে প্রবেশের একদিন পর থেকেই উনি বেশ বিপদে পড়েছেন এবং সেগুলো খুব একটা স্বাভাবিক না, ফোনেও বলা উচিত হবে না। আমি যেন ইমিডিয়েটলি তাঁর সাথে দেখা করি।
সেইসময় হাতে খুব একটা কাজও ছিল না, তাই ভদ্রমহিলাকে কথা দিয়ে দিলাম, আমি যাচ্ছি। জিনিসপত্র সব গুছিয়ে নিলাম, বেশ অনেকটা দূর যেতে হবে, পরের দিন ভোরেই যাত্রা করব স্থির করলাম।
.
“স্যার! শুনছেন স্যার!”
রবিন স্মিথের ডাকে সম্বিৎ ফিরল ইনস্পেকটর স্যাম গর্ডনের। একমনে ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েলের চিঠিটা পড়ছিলেন তিনি।
“হ্যাঁ বলো।”
“এই যে স্যার আপনার ব্ল্যাক কফিটা। চিঠিটা খুব ইন্টারেস্টিং না?”
“চিঠি শেষ করতে দিলে তবে না জবাবটা দেব!”
“ওহ্ মাফ করবেন স্যার। আপনি বরং পড়ুন, আমি চেক করে আসি ফরেনসিক রিপোর্টটা এল কিনা।” উত্তরটা বোধহয় কিঞ্চিৎ রূঢ় হয়ে গেল, ভাবলেন স্যাম।
আসলে পুলিশ লাইনে রবিনের বয়সটা খুবই কম, তাই ছটফটানিগুলো এখনও রয়ে গেছে, তাই মাঝে সাঝে ভারী শব্দগুলো প্রয়োগ করতে হয় বইকী! মুচকি হেসে ভিনসেন্টের গ্যাব্রিয়েলের বাকি চিঠিখানা পড়া শুরু করে দিলেন ইনস্পেকটর স্যাম গর্ডন….
.
।। চার।।
কেন যে মোটা পারিশ্রমিকের বিনিময়েও গাড়িওয়ালারা এদিকে আসতে চায় না কারণটা এবারে স্পষ্ট হল। উফ যমের দক্ষিণ দুয়ারে বাড়ি খুঁজেছেন বটে মহিলা! একরাশ বিরক্তিতে মাথা নাড়লেন ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েল। ভাগ্যিস এক মাতাল ড্রাইভারকে অন্তত পাওয়া গেল, যে ভগবান শয়তান কিছুই মানে না। টাকাটাই সব, সে রাজি হল বলে। তাতে অবশ্যি একটা লাভও হয়েছে, নেশার ঘোরে সে জানিয়েও দিয়েছে কেন এদিকটায়, বিশেষত টিলার ওপরে এই নির্জন বাড়িটায় কেউ আসতে চায় না। এই বাড়িটার প্রাক্তন মালিক ছিল নাকি এক ডেমনোলজিস্ট।
ডেমনোলজিস্ট হোক আর যাই হোক, ভদ্রলোকের শিল্পচেতনার প্রশংসা করতেই হচ্ছে, প্রাসাদসম বাড়িটার সামনে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলেন গ্যাব্রিয়েল। তবে নেগেটিভ এনার্জি এখানে প্রচুর সেটা ইএমএফ মিটারের কাঁটার প্রবল বিক্ষেপণ দেখে বুঝে গেছেন তিনি, তবে নেগেটিভ কোনো এন্টিটি আছে কিনা এখন সেটাই দেখার পালা।
কলিং বেল টিপে দিলেন গ্যাব্রিয়েল।
মধ্যবয়সি এক ভদ্রমহিলা দরজা খুলে বেরিয়ে এলেন। একগাল হেসে অভ্যর্থনা জানালেন ভিনসেন্টকে।
“গুড ইভনিং, আমি মার্থা। আপনি নিশ্চয়ই গ্যাব্রিয়েল! আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আসার জন্য, কিন্তু এত দেরি করে এলেন কেন? প্রায় সন্ধ্যে নামতে চলল।”
“গুড ইভনিং, আর বলবেন না, আপনি এমন জায়গায় বাড়ি নিয়েছেন, কেউ তো আসতেই চায় না। গাড়ির লোক খুঁজে পেতেই আমার বেলা ফুরিয়ে গেল।”
“এ হে! মাফ করবেন! সত্যিই এই জায়গাটা কিঞ্চিৎ দুর্গম! দেখুন দেখি আপনাকে সেই বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে গল্প করে যাচ্ছি, প্লিজ কিছু মনে করবেন না। ভেতরে আসুন।” মার্থা মুখে যতই ওয়ার্ম ওয়েলকাম করুন, বা কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে রাখুন, চোখের তলায় জমে থাকা কালির স্তরই বলে দিচ্ছে, বিগত বেশ কিছুদিন তিনি শান্তিতে ঘুমাতে পারেননি, ওনার ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে যাচ্ছে, বুঝতে পারলেন গ্যাব্রিয়েল I
গ্যাব্রিয়েল-কে একটা সোফাতে বসতে দিলেন মার্থা, নিজে বসলেন চেয়ারে।
“এবারে শুরু করুন মার্থা, একদম শুরু থেকে একটাও কিছু বাদ দেবেন না। কারণ, জানবেন একটা ছোট্ট ডিটেলসে অনেক সময় উত্তর লুকিয়ে থাকে কিন্তু।” মুচকি হেসে বললেন গ্যাব্রিয়েল।
গুমোট পরিবেশটা হালকা করতে চাইলেন তিনি।
“নাহ্ আমার লুকোবার তো কিছুই নেই, সেইজন্যই তো আপনাকে এখানে ডাকা, আসলে আমি গত কয়েকরাত ঘুমাতে পারিনি জানেন তো!”
“হুম সেটা আন্দাজ করেছি খানিকটা।”
“আমি চিরকালই খুব সেলফ্ ডিপেন্ডেবল, একা থাকতেই বেশি ভালোবাসি, রিসেন্টলি এই টাউনেই একটা স্কুলে হেডমিস্ট্রেসের কাজে বহাল হয়েছি, ফলে সস্তায় পেয়ে যাওয়া এই নির্জন বাড়িখানা আমার কাছে স্বপ্নের মতো ছিল।”
“এই বাড়ির প্রাক্তন মালিকের ব্যাপারে কিছু শোনেননি?” প্রশ্ন করলেন গ্যাব্রিয়েল।
“নাহ্, আমি তো এজেন্টের থেকে কিনেছি।” মাথা নাড়েন মার্থা।
“আচ্ছা বেশ, তারপর বলুন।”
“ঘটনাটা শুরু হয়েছে কিছুদিন আগে থেকে, ঘরের মধ্যে কেমন একটা বিশ্রী গন্ধ, আর রাত হলেই মনে হচ্ছে একটা চাপা গর্জন শুরু হচ্ছে। কোনো জন্তু যেন প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে ফলো করছে, সুযোগ পেলেই আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। লোকাল অথরিটিকে জানালাম, তারা এসে পরীক্ষা করে গেল। কিন্তু না ঘরে কোথাও কোনো জন্তুর চিহ্ন নেই। এমনকি ওরা তো আমাকে সাইক্রিয়াটিস্টও কনসাল্ট করতে বললেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন গ্যাব্রিয়েল, আমি জীবনে খুব লড়াই করে বড়ো হয়েছি, আমার মন খুবই শক্ত। কিছু না থাকলে, সেটা কল্পনা করে ভয় পাওয়ার মতো মহিলা আমি নই। আর কাল যেটা ঘটল…”
“কী ঘটেছে কাল?”
“একটা কালো রোমশ আবছা শরীর…” কথাটা শেষ করতে পারলেন না মার্থা, কারেন্ট চলে গেল।
“এখানে কারেন্টের খুবই সমস্যা, আপনি একটু বসুন, আমি মোমবাতি জ্বালিয়ে আনছি।” মার্থা রান্নাঘরে চলে গেলেন।
টপ! টপ!
গ্যাব্রিয়েলে মাথার ওপর কী যেন একটা তরল এসে পড়ল। মাথায় হাত দিলেন তিনি, কেমন একটা চটচটে তরল পদার্থ। নিমেষে হাতের টর্চটা জ্বালিয়ে ওপরে তাক করলেন তিনি। হা ঈশ্বর! এ তিনি কী দেখে ফেললেন!
তাঁর মাথার ওপরেই ছাদ আকঁড়ে রয়েছে একটা লোমশ জান্তব শরীর, চার হাত-পা দিয়ে দেয়াল আঁকড়ে রয়েছে সেটা! প্রকাণ্ড একটা লেজ! মাথার মধ্যে কোনো চোখ নেই, আছে শুধু একটা বিশাল মুখ, ধারালো দাঁত আর লকলকে জিভ! আর সেখান থেকেই লালা টপকে পড়েছে গ্যাব্রিয়েলের ওপরে! এত বছরের অকাল্ট এক্সিপিরিয়েন্সে এরকম কোনো নারকীয় এন্টিটির সাথে পরিচয় ঘটেনি গ্যাব্রিয়েলের, এই প্রথম। তাই সাময়িক স্নায়ু দুর্বলতায়, হাত কেঁপে গেছিল তাঁর। নিজেকে শক্ত করে, হাতের টর্চটা আবার ওপরে করতেই, সব উধাও, কোথাও কিছুই নেই। হঠাৎ একটা নারীকণ্ঠের আর্ত চিৎকার! বুঝলেন রান্না ঘর থেকে আসছে।
“মার্থা! মার্থা!” ছুটে গেলেন গ্যাব্রিয়েল। কিন্তু অনেকটা দেরি হয়ে গেছে ততক্ষণে… হাতের টর্চ মেরে দেখলেন, মার্থার শরীরটা আর মাটিতে নেই, সেই বীভৎস জন্তুটার মতোই, সেও চার হাত-পায়ে রান্নাঘরের দেয়ালে উঠে বসে আছে। তার মুখে কষ বেয়ে লালা গড়িয়ে পড়ছে, মুখে ক্রূর হাসি, আর নজর ঠিক গ্যাব্রিয়েলের দিকেই।
প্রমাদ গুনলেন গ্যাব্রিয়েল। মার্থা অলরেডি পজেসড, কিন্তু এখন তাঁর সামনে সব থেকে বড়ো সমস্যা যেটা হল যে, মার্থা কী ধরনের এন্টিটি দ্বারা পজেসড় সেটা তিনি দেখে ফেললেও, সেই এন্টিটি সম্পর্কে তাঁর কিছুই জানা নেই, তার উৎস, তার প্রতিকার, তার সংবাহিতা, কিছুই তিনি জানেন না, কোনো বইতে তিনি আজ পর্যন্ত এই এন্টিটির সন্ধান পাননি।
হতভাগ্য ডেমনলজিস্ট নরকের কোন অন্ধকারকে এখানে তুলে এনেছে কে জানে! বিড়বিড় করে নিজের মনে বলে উঠলেন গ্যাব্রিয়েল। কিন্তু পিছিয়ে যাওয়া বা পালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আর কারও কাছে না হলেও নিজের কর্মের কাছে গ্যাব্রিয়েল অত্যন্ত সৎ। ওই নিরীহ মেয়েটাকে এই শয়তানের হাতে এভাবে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হবে না। যা হবে হোক, চেষ্টা ছাড়লে চলবে না।
মার্থার দিকে একটু একটু করে এগিয়ে যান গ্যাব্রিয়েল। নিমেষে ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো মার্থা গ্যাব্রিয়েলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে চরম আক্রোশে। তিনিও প্রস্তুত ছিলেন, এক ঝটকায় পাশে সরে যান। পেছন থেকে মার্থাকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। অসম্ভব শক্তিশালী মার্থাকে আটকে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে গ্যাব্রিয়েলের পক্ষে। হাতের সিলভার ক্রুশটা প্রাণপণে মার্থার কপালে চেপে ধরেন তিনি, মুখে ভরে দেন কালো নুনের পুঁটলি আর তার কানের কাছে মুখ এনে পবিত্র বাইবেলের পঙতি চিৎকার করে বলতে শুরু করেন।
একটা পাশবিক আর্তনাদে ঘরটা ভরে যায়।
ধীরে ধীরে মার্থা ঢলে পড়ে গ্যাব্রিয়েলের কোলে। ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়ে গ্যাব্রিয়েলের।
সেই এন্টিটি আর নেই, মার্থাকে ছেড়ে গেছে এটা তিনি বুঝতে পারেন।
গ্যাব্রিয়েল অবাক হন, এত সহজে এত অজানা অচেনা প্রতিপক্ষকে তিনি হারিয়ে দেবেন, এটা তাঁর এখনও কেমন একটা বিশ্বাস হচ্ছে না যেন! অবশ্য আর একটা ব্যপারেও গ্যাব্রিয়েলের অবাক লাগে, এতক্ষণের এত অমানুষিক পরিশ্রমের পরেও তাঁর কিন্তু ক্লান্ত লাগছে না, বরং প্রচণ্ড, প্রচণ্ড ক্ষিদে পাচ্ছে!
.
।। পাঁচ।।
বাড়ি ফিরে আসার পর থেকে আমার খিদের পরিমাণটা আরও যেন বেড়ে গেল! যে আমি দিনে মাত্র তিনবার খেতাম, সে দুঘণ্টা অন্তর অন্তর খেতে শুরু করলাম, খাওয়ার জোগান দিতে নাজেহাল হয়ে আমার চাকর হ্যারিসন তো একদিন বলেই ফেলল, বাবু আপনি তো এরকম খেতেন না, আপনাকে কি শয়তানে পেল নাকি?
এমনকি আমার আদরের বিড়াল ভিত্তি, যে কিনা রোজ চুপটি করে আমার থালার পাশে বসে থাকত আমার উচ্ছিষ্টের আশায়, সেও একদিন বিরক্ত হয়ে আসা বন্ধ করে দিল! কারণ উচ্ছিষ্ট তো দূরের কথা, পারলে আমি থালা-বাসনই খেয়ে নিই তখন!
সবসময় যে খিদেটা পেত তা কিন্তু নয়। খিদেটা ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত ধরনের, যখন ঝোঁকটা আসত, আমার সারা শরীর জুড়ে একটা শিরশিরানি খেলে যেত। পেটে একটা চিড়বিড়ানি ভাব, মাথাটা অসম্ভব ভারী হয়ে যেত। নেশাড়ুদের মদের মতো তখন আমার কাছে খাবারই ছিল এই অভিশপ্ত অবস্থা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়। তখন সামনে খাবার ছাড়া আমি আর কিছুই দেখতে পেতাম না। ভাবছিলাম ডাক্তার দেখাব, নাকি চার্চের কাছ থেকে একবার সাহায্যই নিয়ে আসব। আমার এই পাগলামো দেখে ভয় পেয়ে কিংবা, বারবার খাবার বানানোর ঝক্কির জন্য বিরক্ত হয়ে একদিন দেখলাম আমার চিরকালের একমাত্র সখা, হ্যারিসনও বেপাত্তা হয়েছে। যাকগে, আমি খুব একটা পাত্তা দিলাম না ব্যাপারটাকে, কারণ আমি চিরটাকালই খুব সেলফ্ ডিপেন্ডেন্ট।
নিজে বাজার করব, নিজেই রান্না করব, নিজেই খাব, সমস্যার তো কিছু নেই, আমার কাউকে লাগবে না, আমি একাই ঠিক আছি…
.
“স্যার স্যার!”
“আহ্ কী হল রবিন, আমি তো চিঠিটা পড়ছি নাকি, বারবার বিরক্ত করছ কেন?” অফিসার রবিন স্মিথের আচমকা ডাকে, এবারে বেশ বিরক্ত হলেন ইনস্পেকটর স্যাম গর্ডন।
“স্যার ফরেনসিক রিপোর্ট এসে গেছে!” হাঁফাতে হাঁফাতে বললেন রবিন, যেন ভূত দেখে দৌড়ে এসেছে। “ভালো ব্যাপার তো, আমার কাছে পাঠিয়ে দাও।”
“নাহ্ স্যার, সেই সময় আর নেই, আমাদের এক্ষুনি বেরোতে হবে।”
“কী পাগলামি করছ তুমি?”
“স্যার চিঠিটা তো আপনি পড়েছেন!”
“নাহ্, শেষ করতে আর দিলে কই!” বিরক্তভাবে মাথা নাড়লেন স্যাম গর্ডন
“বাকিটা না হয় এসে পড়বেন, কিন্তু এই মুহূর্তেই
আমাদের বেরোতে হবে স্যার।”
“কিন্তু কোথায় যাব?”
“শেরিফস্যারের বাড়ি। আমি জানি উনি অত্যন্ত বিপদের মধ্যে আছেন…”
.
।। ছয়।।
সারাটা রাস্তা জুড়ে গম্ভীর মুখে নিঃশব্দে এত বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালিয়েছে রবিন, যে ইনস্পেকটর স্যাম গর্ডন তো ঠিকই করে নিয়েছেন, শেরিফকে আজই ওর নামে কমপ্লেন করবেন। সিনিয়রদের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, ওকে একবার সমঝে দেওয়া দরকার। গাড়িটা শেরিফের বাড়ির সামনে দাঁড়াতেই দৌড় দিলেন স্যাম।
“স্যার শুনুন, স্যার শুনুন, একা যাবেন না।” রবিনের আর্তচিৎকারে ফিরেও তাকালেন না তিনি।
“জুনিয়র হিসেবে অনেক পাগলামো সহ্য করেছি তোমার, এবার আমার পালা।” সোজা গিয়ে শেরিফের বাড়ির দরজায় ধাক্কা দিলেন স্যাম।
কী আশ্চর্য, দরজা তো খোলা! ঘরে ঢুকেই একটা বিশ্রী গূঢ় গন্ধ নাকে এল তার। হা ঈশ্বর, এ গন্ধ খুব চেনা তার। কী করে ভুলতে পারেন তিনি এ গন্ধ! ঠিক এই গন্ধটাই তো ছিল ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েলের বাড়িতে। তবে কী…
“শেরিফ! শেরিফ!” চিৎকার করতে করতে পাগলের মতো তিনি খুঁজতে লাগলেন প্রতিটা ঘর।
“স্যাম!” একটা ক্ষীণ গোঙানো শব্দ কানে এল তাঁর। আরে ওই তো শেরিফ, ঘরের একটা কোনায় পড়ে আছেন।
“হা ঈশ্বর, আপনার, এরকম হাল কে করল?”
ইনস্পেকটর স্যাম গর্ডনের মনে হল তিনি বুঝি আবার অজ্ঞান হয়ে পড়বেন, কারণ সেদিন ১৪/বির ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েলের বাড়িতে যে দৃশ্যটা তিনি দেখেছিলেন, আজও ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে যেন। শেরিফের শরীরের তলার অংশটাও কোনো এক হিংস্র জন্তু যেন চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়ে গেছে, অতি কষ্টে একটা হাত তুলে তিনি সাহায্য প্রার্থনা করে চলেছেন।
“স্যাম!”
“আমি এসে গেছি শেরিফ, আপনার আর কোনো ভয় নেই।”
শেরিফকে হাত ধরে তুলতে যাওয়ার আগেই প্রচণ্ড একটা ধাক্কা খেলেন স্যাম গর্ডন, কেউ যেন সজোরে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল তাঁকে! ছিটকে পড়লেন তিনি!
সাময়িক বিহ্বলতা কাটিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দেখলেন, সামনেই রবিন দাঁড়িয়ে আছে।
“তুমি কি পাগল হয়ে গেলে রবিন, এই সময়ে তুমি আমাকে ধাক্কা মারছ?”
“আপনি যেখানে বসে আছেন ঠিক সেখানেই বসে থাকুন স্যার, লেট মি হ্যান্ডেল দিস।”
“ইউ স্কাউড্রেল, তুমি কি আমাকে তোমার মতো পাগল পেয়েছ?” রবিনকে ঠেলে-ঠুলে দিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেন ইনস্পেকটর স্যাম গর্ডন। পারলেন না, বাধাপ্রাপ্ত হলেন।
রবিনের হাতে উদ্যত সার্ভিস পিস্তল। ঠিক তার দিকে মুখ করে!
“ওখানেই থেমে যান স্যার। আর এক পা-ও এগোবেন না। না হলে আপনাকেও চিরতরে থামিয়ে দিতে বাধ্য হব।”
“তুমি কি সত্যিই পাগল হলে রবিন?” অসহায়ের মতো চিৎকারের করে উঠলেন স্যাম।
“ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েলের চিঠির শেষটা কিন্তু আপনি পড়েননি স্যার, আর ১৪-বির ফরেনসিক রিপোর্টটাও আপনি দেখেননি।” দাঁতে দাঁত চেপে বলে ওঠে রবিন স্মিথ!
“কী লেখা আছে শেষে?”
“ফরেনসিক রিপোর্টে লেখা আছে, ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েলের পেটের মধ্যে যে অবশিষ্ট খাবারের অংশগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো তার নিজের দেহের অংশ!”
“মানে?” চিৎকার করে উঠলেন স্যাম গর্ডন!
“অন্য কেউ নয়, ভিনসেন্ট গ্যাব্রিয়েলের শরীরটা চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়েছিল ভিনসেন্ট নিজেই, প্রচণ্ড ক্ষুধায়!”
“হা ঈশ্বর, এ আমি কী শুনছি!”
“ঠিকই শুনছেন স্যার। গ্যাব্রিয়েল ভিনসেন্টের চিঠির শেষেই লেখা ছিল সেই ভয়ংকর সতর্কবাণীটা। সেদিনের সেই মহিলার দেহ থেকে আননোন ডেমনটা প্রবেশ করেছিল গ্যাব্রিয়েলের শরীরে। তার পোষা সেই বিড়াল, ভৃত্য কোনো কিছুই ক্ষুধা মেটাতে পারেনি তার, শেষে ক্ষুধার তাড়নায় নিজেকেই গ্যাব্রিয়েল তিলে তিলে নিঃশেষ করার অন্তিম মুহূর্তে আপনি আর শেরিফ সেখানে গিয়ে উপস্থিত হন, আর তারপরেই গ্যাব্রিয়েলের শরীর থেকে সেই ডেমন এসে পৌঁছায় শেরিফের শরীরে!”
“কিন্তু শেরিফ কীভাবে আক্রান্ত হলেন?” প্রশ্ন করেন স্যাম গর্ডন।
“স্পর্শের মাধ্যমে!”
“স্পর্শ?”
“হাঁ, অন্তত গ্যাব্রিয়েলের চিঠি তো তাই বলছে, ডেমনের ক্লাসিফিকেশান সে করতে না পারলেও তার বিস্তার আর অন্তর উপায় অন্তত সে বলে গেছে, নিজে না পারলেও সাবধান করে গেছে। সেদিন গ্যাব্রিয়েলের পজেসড শরীরকে ছুঁয়ে ফেলে যে ভুল শেরিফ করেছিলেন, আজ শেরিফকে স্পর্শ করে আপনিও সেই একই অভিশাপ নিজের ওপর নিয়ে আসতে চলেছিলেন, যদি না আমি শেষ মূহুর্তে আপনাকে আটকাতে পারতাম, পরমপিতাকে ধন্যবাদ দিন।”
“আমার কিছুই মাথায় ঢুকছে না, এসবও কি সম্ভব আজকের বিজ্ঞানের দিনে!” বিহ্বলভাবে নিজের মুখটা হাত দিয়ে ঢেকে ফেললেন স্যাম গর্ডন।
“আপনাকে কিছুই করতে হবে না স্যার। লেট মি হ্যান্ডেল দিস, জুনিয়রকেও কখনও সিনিয়র হওয়ার একটি সুযোগ দিন।”
মৃদু হেসে অফিসার স্মিথ একটু একটু করে এগিয়ে যেতে থাকে শেরিফের সেই অর্ধভুক্ত শরীরটার দিকে, স্মিথের হাতে ধরা একটা পেট্রলের ক্যানেস্তারা, আর দেশলাই!
একটু পরে একটা বুকফাটা আর্তনাদ, কিছু আগুনের লেলিহান শিখা আর বিশ্রী পোড়া গন্ধে ভরে যায় শেরিফ জোন্সের বিশাল বাড়িটা।







